তরল হাইড্রোজেন জ্বালানী ব্যবস্থা উদ্ভাবন করলো চীন


মে ১৪, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: বিশ্বে হাইড্রোজেন-চালিত যানবাহনের বিকাশে অগ্রগামী দেশে পরিণত হয়েছে চীন। দেশটিতে বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম হাইড্রোজেন ফুয়েলিং স্টেশন নেটওয়ার্ক রয়েছে। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে ১ মিলিয়ন হাইড্রোজেন-চালিত যানবাহন রাস্তায় চালানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটি।


মূলত চীনের পরিবহন খাতকে আরও বেশি পরিবেশবান্ধব করার প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এটি। দেশটির সরকার হাইড্রোজেন-চালিত যানবাহনের গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ভারী যানবাহনের জন্য তরল হাইড্রোজেন জ্বালানী ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছে চীনের মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কর্পোরেশন। এই ব্যবস্থাটি পরিবেশবান্ধব এবং প্রথাগত জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে।


সম্প্রতি ১০০ কিলোগ্রাম ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এ তরল হাইড্রোজেন সিস্টেমটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে উদ্ভাবন করা হয়েছে। নতুন এ সিস্টেমটি ভারী ট্রাকে ব্যবহার করা হবে। এতে একবারের চার্জ দিয়ে ১ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারবে।


চীনের মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কর্পোরেশন একজন বিশেষজ্ঞ জানান, পূর্বের জ্বালানী ব্যবস্থার তুলনায় নতুন এ সিস্টেমটিতে জ্বালানী সংরক্ষণে ২০ শতাংশ জায়গা কম লাগবে এবং জ্বালানী ব্যয় ৩০ শতাংশেরও বেশি কমিয়ে দেবে। ১০০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত হাইড্রোজেন ধারণক্ষমতাসহ এটি সিস্টেমের গুণমান, হাইড্রোজেন স্টোরেজ ঘনত্ব এবং রিফিলের সময়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।


এই উদ্ভাবনটি ভারী যানবাহন শিল্পে বিপ্লব ঘটাতে পারে, যা পরিবেশ দূষণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে।


হাইড্রোজেনকে মাইনাস ২৫২ দশমিক ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় শীতল করলে পাওয়া যাবে তরল হাইড্রোজেন। এটি একটি উচ্চ-শক্তির জ্বালানী, যার বিভিন্ন ব্যবহার রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রকেট, বিমান, গাড়ির জ্বালানী। বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিভিন্ন শিল্প উষ্ণতা প্রদানে ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া কিছু মেটাল ঢালাই এবং জোড়া লাগানোর কাজেও ব্যবহৃত হয় তরল হাইড্রোজেন।