Mafia_Boss
Part:79
Tabassum Riana
বৃদ্ধ কাকা পড়ে গেলো তুমুল চিৎকার দিয়ে।রুহী ও তীব্র চিৎকার দিতেই কে যেন হ্যাচকা টানে বুকে নিয়ে বলতে লাগলো,
''ব্ল্যাকরোজ আমি,ভয় পেওনা জান।"
রুহী মাথা তুলে তাকায় সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটার দিকে।অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে রুহী কারন মানুষটা ওর প্রিয়তম।ওর রোয়েন যে মানুষটার ছোঁয়া পাবার আশায় ব্যাকুল হয়ে ছিলো।রুহী দাঁড়িয়ে খুব কষ্টে জড়িয়ে ধরে রোয়েনকে।কাঁদতে শুরু করে ফুঁপিয়ে।রুহীর পিঠে হাত রেখে রোয়েন বলতে লাগলো,
''কেঁদোনা রুহী আমি চলে আসছি তো।"
রুহী একটু সামনে এসে রোয়েনের ঠোঁটজোড়ায় চুমু খেতেই রুহীকে সরিয়ে ওর গালে কপালে হাত ছুঁয়ে দিয়ে সারামুখে চুমু দিয়ে বলতে লাগলো,
''রুহী চলো বের হই,এখানে আর থাকবেনা চলো।"
রুহী ভয় জড়িত কন্ঠে বলল,
''চলুন শয়তানটা চলে আসবে।"
মৃদু হাসে রোয়েন।বলল,
''সেই ভয় পেও না।ও আমার লোকদের হাতে জল থেকে বেরিয়ে আসা মাছের মতো লাফাচ্ছে।"
রুহী আবারো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রোয়েনকে।বলল,
''আর কখনো দূরে যাবেননা।"
রোয়েন বলল,
''চলো বের হয়ে যাই।"
বলেই রুহীকে টানতেই দেখলো রুহী বসে পড়েছে।রোয়েন খেয়াল করে রুহীকে ভীষন দূর্বল দেখাচ্ছে।রোয়েন কিছু না বলে রুহীকে কোলে তুলে নিয়ে বেরিয়ে গেলো।রুহী রোয়েনের গলা জড়িয়ে ধরে ছলছল চোখে নিজের মানুষটাকে দেখছে।রুহীকে বাহিরে এনে দাঁড় করাতেই রুহী দেখলো সব রোয়েনের লোক আর রিকের আছে দুজন কি তিনজন।যেখানে আসার পর মনে হয়েছিলো রিকের অনেক লোক আছে।রিকে কে দুজন আটকে রেখেছে আর পাশে ওর বাপের নিথর দেহ পড়ে আছে।বুড়োর হাত পা জোড়া দুদিকে বাঁকানো।দেখেই বুঝাই যাচ্ছে মুচড়ে ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে।রুহী গিয়ে রোয়েনের হাত শক্ত করে ধরে রিকের ছেলের দিকে তাকায়।সে চোখ বড় করে রাগে ফুঁসছে।আর রোয়োনকে দেখতেই বলে উঠলো,
''তোর সাহস কি করে হয় রে আমার সামনে দাঁড়ানোর?আমার ড্যাডি কে এভাবে মারলি?হারামির বাচ্চা কোথাকার।তোর এই সুন্দরী প্রেমিকাকে তো আমি কিছুই করিনি।করতে পারতাম অনেক কিছুই।ওরে নিচে ফেলে আমার লোকদের দিয়ে......."
কথাটা শেষ করার আগেই রোয়েন প্রায় উড়ে গিয়ে প্রচন্ড জোরে রিকের গালে ঘুষি মারতেই নিচে পড়ে গেলো।রোয়েন ওর গলার মধ্যে পাড়া দিয়ে চিৎকার বলল,
''ডোন্ট ডেয়ার টু টক এনিথিং রাবিশ ফর হার ইউ বাস্টার্ড।"
রিকে কি যেন বলতে গিয়ে ও পারেনা।রোয়েন দাঁতে দাঁত চেঁপে বলতে লাগলো,
''যেদিন তোকে প্রথম দেখেছিলাম না রে সেদিন মনে হচ্ছিলো মেরে ফেলি একদম বাট নিজেকে নিয়ন্ত্রন করেছিলাম এই দিনের জন্য।ইউ আর সো লাকি।".
রিকে রোয়েনের পা সরিয়ে খসখসে গলায় বলল,
''আমি লাকি সেটা ঠিক আছে।কিন্তু হোটেলে থাকা দুহাজার মানুষকে কি করে বাঁচাবি?একটু পরই তো সবই শেষ হয়ে যাবে।বোম এক্টিভ আছে আর মাত্র দশমিনিট আছে।পারলে বাঁচা যাহ!!"
কথাগুলো শুনতেই রোয়েনের শরীর অবশ হয়ে আসে।কোনমতে রুয়েলের দিকে তাকিয়ে বলল,
''ওকে আটকে রাখ।"
তারপর দুজন লোককে ডেকে বলল,
''চল।"
তখনই রুয়েল দৌড়ে ভাইকে ধরে বলল,
''নাহ ভাইয়া তুমি একা যাবেনা আমি ও যাবো।"
রোয়েন ধাক্কা দিয়ে রুয়েলকে সরিয়ে ধমকে বলল,
"কথা বলবিনা।আমি যাচ্ছি রুহীর দিকে খেয়াল রাখিস।"
তারপর বেশ দূরে দাঁড়িয়ে থাকা রুহীর দিকে তাকিয়ে দুজন লোক নিয়ে হোটেলের ভেতর প্রবেশ করে।রোয়েন দৃষ্টিগোচর হতেই মতিভ্রম হয় রুহীর।দৌড়ে গিয়ে রুয়েলকে বলতে লাগলো,
''ওনি কই গেলো ভাইয়া?বলেননা কই গেলো ওনি?"
রুয়েল বলার আগেই রিকের ছেলে বলল,
''তোর লাভার আর আসবেনা বুঝলি?একটু পর ফুস করে সব শেষ হয়ে যাবে আর তোর লাভার ও।বোম ব্লাস্ট হবে বুম করে।"
রুহী দৌড়ে গেলো হোটেলের দিকে তখনই রুয়েল ওকে আটকে বলল,
''ভাবি যাবেননা।আমিই যাচ্ছি ভাইয়ার কিছু হবেনা কথা দিলাম।"
বলেই দৌড়ে হোটেলের ভেতর প্রবেশ করে।রুহী ভেতরে যেতে চাইতেই রোয়েনের লোকেরা ওকে থামিয়ে দেয়।রুহী চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো।তারপর এসে রিকের ছেলে রিকে জুনিয়রকে দুহাতে থাপড়ে বলতে লাগলো,
''ওনার কিছু হলে তোকে জ্যান্ত আগুনে পুড়াবো কুত্তা কোথাকার।"
এদিকে রোয়েন ঢুকেই সিড়ি দিয়েই ওপরে যেতে থাকে।রোয়েন এ ফ্লোর ওফ্লোর দৌড়ে খুঁজতে থাকে বোম আছে কিনা।এদিকে হাতে সময় নেই।এরই মাঝে রুয়েল দৌড়ে এসে বলল,
''ছাদে সম্ভাবনা আছে ভাইয়া।"
রোয়েন চিৎকার করে বলল,
''তুই কেন এখানে?"
রুয়েল বলল,
''ভাইয়া আগে বোম ডিফিউজ করতে হবে তারপর সব উত্তর দেবো।"
রোয়েন আর রুয়েল দৌড়ে ছাদের পথে অগ্রসর হয়। ছাদে গিয়ে সবাই মিলে খুঁজতে শুরু করে। হঠাৎ রোয়েন খেয়াল করে ফুলের টবের মাটির ভেতর ফুলে আছে কিছু একটা।আর ভেতর থেকে মৃদু শব্দ ভেসে আসছে।রোয়েন বসেই হাত দিয়ে মাটি উঠিয়ে বোম খুঁজতে শুরু করে।এরই মাঝে রুয়েল আর বাকি দুজন রোয়েনের পাশে চলে আসে।রোয়েন বলল,
''এই টা ডিফ্রেন্ট।এমন বোম আগে কখনো হাতে আসেনি সময়ও মাত্র চার সেকেন্ড।রুহী ভালবাসি তোমাকে।"
বলেই একটা তারে কাঁচি বসায়।
রুহী কাঁদছে আরো কয়েকবার হোটেলে যেতে চেয়েছিলো।যেতে না পেরে রিকে জুনিয়রকে থাপড় লাথি ঘুষি মেরে অশ্রাব্য গালাগালি করছিলো রুহী।কয়েকদিন ঠিকমতো খেতে না পারায় বসে পড়ে রুহী।চোখজোড়া দূর্বল হয়ে আসতে আসতে সব ঘোলাটে হয়ে আসে।এরই মাঝে কি জানি হলো জ্ঞান হারিয়ে ফেলে রুহী।
ঘন্টাখানিক পর জ্ঞান ফিরে নিজেকে হাসপাতালে আবিষ্কার করে রুহী।ভীষন দূর্বল লাগছে ওর।হঠাজ মনে হলো মানুষটা কই?সে তো হোটেলের ভেতর চলে গিয়েছিলো বোম ডিফিউজ করতে। রুহী হাত নাড়াতে গিয়ে খেয়াল করলো ওর হাতে স্যালাইন লাগানো।উঠতে যাবে তখনই কেউ এসে থামিয়ে ওকে বুকে জড়িয়ে বলল,
''ব্ল্যাকরোজ আমি এখানে।"
রুহী রোয়েনকে এক হাতে জড়িয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলো,
''ঠিক আছেন আপনি?রোয়েন আপনিই তো? কত ভয় পেয়ে গেছিলাম জানেন?".
রোয়েন ওর সামনে বসে কপালে ঠোঁট বুলিয়ে বলল,
''রুহী আমি ঠিক আছি।সব ঠিক ভাবে হয়ে গেছে।".
রুহী রোয়েনের হাত মুখ স্পর্শ করে অশ্রুসিক্ত দৃষ্টিতে ধরে আসা কন্ঠে বলতে লাগলো,
''আপনি ঠিক আছেন রোয়েন।আপনি আমার সামনে আছেন।"
রোয়েন বলল,
''তোমার সামনে আছি।"
রুহী হাসলো।তারপর বলল,
''আপনি এখানে থাকেন।"
রোয়েনের হাতে হাত রেখে চোখ বুজে রুহী।রুহীর মাথায় হাত রেখে রোয়েন একটু হাসে।রিকের সাথে দেখা হওয়ার আগেই রোয়েন রিকের সম্পর্কে সব জেনে নেয়।রিকে কেমন? কি করে?কই যায় সব?এমনকি রিকের নম্বর ট্র্যাক করে রাখে।এরপর রিকে যতো জায়গা দেখিয়েছিলো রোয়েন জানতে পারে সেখানের সব জায়গাই মিথ্যা কারন রিকের এই আচরনে রুয়েল ইজি থাকলে ও রোয়েন কঠিন নজর রেখেছিলো।এবং রিকের আস্তানায় একজন একজন করে মেরে মেরে নিজের লোক ঢুকাতে থাকে রিকের দলে।
এমনকি গতরাতেই হোটেল পুরোটায় রোয়েনের লোক থাকে যা রিকে ধরতে পারেনি।রোয়েন নিজের লোকদের রাখে যার কারনে কিছু হলে অন্তত যেন এটাক করতে পারে। কারন রিকে জুনিয়র বারবার নিজের পরিকল্পনা পাল্টাচ্ছিলো ভেবেছে রোয়েনকে হারাতে পারবে কিন্তু না রোয়েনকে এই বদমাশ চেনেনা।রোয়েনই ওকে জানিয়েছিলো সব সত্য কারন সত্য জানার পর ও অবশ্যই শান্ত হয়ে বসবেনা।আর সেই সুযোগ এ থাকবে ওরা।কারন রিকে পুরোই দূর্বল ছিলো কিছুই করতে পারতো না।সকালেই রোয়েন আর রুয়েল দলবল নিয়ে রেডি থাকে হোটেলের সামনে।তারপর সবাইকে ধরে ফেলে আর ব্ল্যাকরোজ চলে আসে ওর কাছে।রুহীর স্যালাইন খুলে দেয়া হয়েছে কিছুক্ষন আগেই।স্যালাইন একটাই দেয়া হয়েছিলো।কিছুক্ষন পরই হাসপাতাল থেকে খাবার দেয়া হলো।তখনই রফিক এসে বলল,
''স্যার রুহী ম্যামের ফোন অন করেন।ওনার মা অসুস্থ হয়ে গেছেন।সারাদিন কান্না কাটি করে খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিছে।"
রুহী দূর্বল শরীর নিয়ে উঠে বসে।রোয়েন ফোন অন করে রুহীর নম্বর থেকে কল দেয় সাবিনা রহমানকে।রুহী কানে ফোন রাখতেই সাবিনা রহমান কেঁদে বলতে লাগলেন,
''রুহী তোর মা আমি।একটু কথাও বলিসনি।কত টেনশনে ছিলাম জানিস?একবার জানালিও না তুই যাচ্ছিস। এটা কেমন কথা বলতো?আয় তোর খবর আছে।"
রুহী হেসে দূর্বল কন্ঠে বলল,
''মা আমি ঠিক আছি।"
সাবিনা রহমান বললেন,
''রোয়েন সাহেব কেমন আছে রে?আমি রোজা আছি তোদের জন্য।যেন তোরা ঠিক ভাবে ফিরে আসিস।দুরাকাত নফল নামাজ আদায় করবো বলে ঠিক করেছি।খালি তোরা চলে আয়।"
রুহীর চোখে পানি চলে আসে।বলল,
''মা আমরা চলে আসবো।"
কথা শেষ করে রুহী রোয়েনের দিকে তাকায়।হঠাৎ রুহী বলল,
''রুয়েল ভাই কই?ওনি ও চলে গেছিলেন?"
রোয়েন বলল,
''যাওয়ার সব প্রস্তুতি করছে।"
রুহী বলল,
''আর রিকে জুনিয়রকে কি করলেন?"
রোয়েন রুহীর কাছে বসে গলায় মুখ ডুবিয়ে বলল,
''আপাতত কারেন্ট শকের ওপর রেখেছি বাকিটা ঢাকায় ফিরে হবে।এখন আমাকে সময় দাও তারপর খেয়ে রাতে বের হবো।"
রুহী হেসে রোয়েনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।
চলবে
Part 78
https://www.facebook.com/share/p/2DLyPgaJYJ9swisA/?mibextid=oFDknk

0 মন্তব্যসমূহ