১৯১৩ সালে আমেরিকার গ্লাসিয়ার ন্যাশনাল পার্কে তোলা এক বিরল ফটোগ্রাফ। বিলুপ্তপ্রায় 'ব্ল্যাকফুট' উপজাতি'দের কয়েক জন সদস্যকে দেখা যাচ্ছে এই ছবিতে। সম্ভবত ওই শেষবার কোনো ছবি তোলা গিয়েছিলো জঙ্গলের গভীরে বসবাস করা এই আদিম উপজাতিদের...
ব্ল্যাকফুট নেটিভ আমেরিকান এবং আদিবাসীদের মধ্যে অনেকগুলি পুরাণ প্রচলিত আছে। ব্ল্যাকফুটেরা কানাডার অ্যালবার্টা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা রাজ্যে আজও বাস করে। এই সব কাহিনি, পুরাণকথা, সৃষ্টিতত্ত্ব ও কিংবদন্তি তাদের দৈনন্দিন জীবনে এবং তাদের ধর্ম, ইতিহাস ও বিশ্বাসে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
ব্ল্যাকফুট উপজাতিগুলিতে কেবলমাত্র প্রবীণ ব্যক্তিরা গল্প বলার অধিকারী। এই সব পুরাণকথা সব সময় জানা সম্ভব হয় না। কারণ, উপজাতিগুলির প্রবীণ ব্যক্তিরা প্রায়শই উপজাতির বাইরের অচেনা লোকের সামনে গল্প বলতে অস্বীকার করেন।
Biswajit Saha - বিশ্বজিৎ সাহা
অভিযাত্রী জর্জ বার্ড গ্রিনেল, জন ম্যাকলেন, ডি. সি. ডুভাল, ক্লার্ক উইসলার ও জেমস উইলার্ড স্কুলজ প্রমুখ ব্যক্তিরা এই উপজাতির কাছে পবিত্র কিছু গল্প জানতে সক্ষম হয়েছিলেন।
এদের সংস্কৃতিতে একাধিক সৃষ্টিপুরাণ পাওয়া যায়। এগুলির মধ্যে একটি হল নাপিওয়া-সংক্রান্ত সৃষ্টিপুরাণ। প্রায় প্রত্যেকটি ব্ল্যাকফুট পুরাণেই নাপিওয়ার উল্লেখ পাওয়া যায়। ব্ল্যাকফুট পুরাণে ইনি একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে পরিগণিত হন। সূর্য, বৃদ্ধ ও নাপি (নাহ্-পি) ইত্যাদি একাধিক নামে নাপিওয়া পরিচিত।
Biswajit Saha - বিশ্বজিৎ সাহা
কথিত আছে, নাপিওয়া একটি নদীতে ভাসতে ভাসতে একটি কচ্ছপ খুঁজে পান। সেই কচ্ছপের মুখের কাদা দিয়ে তিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেন। তিনি কাদা দিয়ে শুধুমাত্র পৃথিবীই সৃষ্টি করলেন না, বরং পুরুষ ও নারীদেরও সৃষ্টি করলেন। মানুষের শিকারের উপযোগী করে নাপিওয়া পোষা বাইসনও সৃষ্টি করলেন। তিনি পশু, ঘাস এবং পৃথিবীতে মানুষের ব্যবহার্য সামগ্রীও সৃষ্টি করেছেন।
যদিও আজ আর এই উপজাতিকে প্রকাশ্যে দেখা যায় না। তাদের অস্তিত্ব আধুনিক মানুষের কাছে আজ এক রহস্য হয়েই রয়ে গেছে...

0 মন্তব্যসমূহ