থাইরয়েড হল আমাদের গলায় অবস্থিত ছোট্ট একটি গ্রন্থি। এই গ্রন্থি থাইরয়েড হরমোন তৈরীর জন্য দায়ী। প্রথমে ব্রেনের হাইপোথালামাস থেকে TRH নামে একটি হরমোন তৈরী হয়। TRH তারপর পিটুইটারি নামের অন্য একটি গ্রন্থি কে উদ্দিপীত করলে পিটুইটারি গ্ল্যান্ড থেকে TSH নামে একটি হরমোন তৈরী হয়। এই হরমোন আবার থাইরয়েড গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করলে, খাবার থেকে প্রাপ্ত আয়োডিন কে ব্যবহার করে থাইরয়েড হরমোন তৈরী হয়। থাইরয়েড হরমোন দুই প্রকার-T3(০.১%) এবং T4(৯৯.৯%), এই হরমোন দুটি আমাদের শরীরের অনেক গুরত্বপূর্ণ কার্যাবলী সম্পাদনে ভূমিকা রাখে। হাইপোথালামাস, পিটুইটারি ও থাইরয়েড গ্রন্থি এই তিনটার যে কোন
একটাতে সমস্যা থাকলেই, শরীরে থাইরয়েড হরমোন এর পরিমাণে বেশকম হয়ে যাবে। তাছাড়া আয়োডিন এর অভাব হলেও, থাইরয়েড হরমোনের পরিমান কমে যাবে। যদি শরীরে থাইরয়েড হরমোনের পরিমাণ কমে যায় তবে তাকে বলে “হাইপোথাইরয়েডিসম” আর যদি বেড়ে যায়, তাকে বলে “হাইপারথাইরয়েডিসম”।
হাইপারথাইরয়েডিসম এর লক্ষন সমূহঃ
১) অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
২) গরম সহ্য করতে না পারা
৩) হাত পা হালকা কাপা
৪) নার্ভাসনেস
৫) মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া
৫) হার্টবিট বেড়ে যাওয়া
৬) হঠাত করে ওজন কমে যাওয়া
৭) অনেক খেয়েও ওজন বাড়াতে না পারা
8) অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পরা
৫) কাজে মনোযোগের অভাব
৬) মহিলাদের অনিয়মিত ঋতুস্রাব
৭) ঋতুস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া
8) ঘুম কম হওয়া
৫) বড় বড় কোটর থেকে বের হয়ে আসা চোখ
যদিও এই সমস্যাগুলো সেইরকম ভাবে আপনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবেনা। কিন্তু কারো যদি চিকিতসাবিহীন অবস্থায় অনেকদিন হাইপারথাইরয়েডিসম থাকে, তাহলে “থাইরয়েড স্ট্রম” হতে পারে। তবে এটি খুব কমন কোন ঘটনা নয় এবং সাধারণত বৃদ্ধ বয়সে হয়। “থাইরয়েড স্ট্রম” বলতে বুঝায় হঠায় করে অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন তৈরী হতে যাওয়া। এর ফলে প্রচন্ড জ্বর, মাথা কাজ না করা, পেটে ব্যাথা, উচ্চরক্তচাপ, হার্ট বিট অত্যন্ত বেড়ে যাওয়া এবং হার্ট ফেইলিওর হয়। তাদক্ষনিক চিকিতসা না করলে “থাইরয়েড স্ট্রম” জীবন ঘাতি হতে পারে। সাধারণত ইনফেকশন ও স্ট্রেস হাইপারথাইরয়েডিসমের রোগীর মধ্যে “থাইরয়েড স্ট্রম” তৈরী করে।
হাইপোথাইরয়েডিসম এর লক্ষন সমূহঃ
১) দুর্বলতা
২) স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া
৩) ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা
৪) কোষ্ট্যকাঠিন্য
৫) বিবর্ন ও শুস্ক ত্বক
৬) পেশি এবং জয়েন্ট গুলো তে জড়তা বা ব্যাথা অনুভব করা
৭) মহিলাদের বেশি পরিমানে অথবা বেশি সময় ধরে ঋতুস্রাব
8) ডিপ্রেশন
৯) চিকন এবং ফাটা চুল অথবা ফাটা নখ
১০) চলাফেরায় মন্থর গতি
১১) হঠাত ওজন বেড়ে যাওয়া
১২) খুব কম খেয়েও ওজন কমাতে না পারা
১৩) চুল পরা
১৪) বারন্ত ছেলেমেয়েদের ধীর উচ্চতা বৃদ্ধি এবং ধীর সেক্সুয়াল ডেভেলপমেন্ট
হাইপারথাইরয়েডিসম এর মতই এই লক্ষন গুলো আপনাকে অতটা বিরক্ত করবেনা। কিন্তু অনেকদিন চিকিতসাবিহীন থাকলে আপনার “মিক্সএডেমা কোমা (Myxedema coma)” হতে পারে। মিক্সএডেমা কোমা বলতে বুঝায়ে শরীরে থাইরয়েড হরমোনের পরিমাণ হঠাত অতিরিক্ত কমে যাওয়া, এর ফলে আপনার ব্রেইন ঠিকমতো কাজ করবে না।। ইনফেকশন, অসুস্থতা, ঠান্ডা আবহাওয়া এবং কিছু ওষুধ এই কোমা তৈরী করতে শরীর কে উজ্জিবীত করে এবং সাধারণত বৃদ্ধ বয়সে হয়। হাইপারথাইরয়েডিসম ফলে হওয়া “থাইরয়েড স্ট্রোম” এর মতই এই “মিক্সএডেমা কোমা” ও অতটা কমন না কিন্তু জীবনঘাতি।
তাছাড়া হাইপারথাইরয়েডিসম এবং হাইপোরথাইরয়েডিসম দুটোর কারণেই কারণে থাইরয়েড গ্রন্থি আকারে অনেক বড় হয়ে যায়। একে বলা হয় গলগন্ড। গলগন্ড হলে শ্বাসে সমস্যা হয়, খাদ্য গ্রহনে সমস্যা হয়, ব্যথা এমনকি ক্যন্সার ও হতে পারে।
সুতরাং আপনার লক্ষনগুলো যদি “হাইপারথাইরয়েডিসম” অথবা “হাইপোথাইরয়েডিসম” সাথে মিলে যায়, একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট এর সাথে দেখা করুন। রক্তপরীক্ষার মাধ্যমে আপনার রক্তে TSH, T3 এবংT4 এর পরিমাণ নির্ণয় করলেই বোঝা যাবে যে আপনার থাইরয়েড এর সমস্যা আছে কিনা। যদিও থাইরয়েড এর সমস্যা যাতে না হয়, তা আগে থেকে প্রতিরোধের উপায় নেই (যদি না আয়োডিন এর অভাবে থাইরয়েড এর রোগ হয়ে থাকে), কিন্তু যদি রোগ হয়ে যায়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি হলেও তার চিকিতসা আছে। সুতরাং ভয়ের কিছু নেই, শুধু প্রয়োজন সচেতনতার। পোস্টটি শেয়ার করুন যাতে, সবাই ই তাদের থাইরয়েড এর সমস্যা আছে কিনা সে ব্যাপারে সচেতন হতে পারে এবং বাসার কোন বৃদ্ধ মুরুব্বির থাইরয়েড এর সমস্যা থাকলে সে “থাইরয়েড স্ট্রম” বা ““মিক্সএডেমা কোমা” তে আক্রান্ত হলে বুঝতে পারে।
যেভাবে বুঝবেন আপনার থাইরয়েড রোগ আছে কি না? বুঝার ঘরোয়া পদ্ধতিঃ
লক্ষ করি, নিচের ২ এর কম প্রশ্নের জবাব যদি হ্যাঁ হয় তাহলে আপনার থাইরয়েড ভাল আছে।
২-৪ টি প্রশ্নের জবাব যদি হা হয় তাহলে আপনার থাইরয়েড রোগ আছে কিন্তু তা কম মাত্রায়।
৪ এর অধিক প্রশ্নের জবাব যদি হা হয় তাহলে ধরে নিতে হবে আপনার থাইরয়েড এর অবস্থা খুব খারাপ।
এখন নিচের প্রশ্নগুলোর সাথে আপনার জবাব মিলিয়ে নিন।
আপনার আঙ্গুলের নখগুলো কি পুরু ও ভঙ্গুর ?
ত্বক কি শুষ্ক ও চোখগুলো কি প্রায়ই জ্বালা করে ?
হাত পা কি ঠাণ্ডা?
গলার স্বর কি ভাঙ্গা?
চুল কি মোটা, চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে বা পরে যাচ্ছে?
আই ভ্রুর বাইরের দিক কি পাতলা হয়ে যাচ্ছে?
ঘাম কি বেশী হয়?
অল্পতেই কি খুব ক্লান্ত হয়ে যান?
রজঃচক্র কি অনিয়মিত?
যৌন বাসনা কি কমে গেছে?
রজঃনিবিত্তি পরবর্তী অথবা PMS কি সাংঘাতিক ?
হাত পা কি ঘন ঘন ফুলে যায়?
রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন কি ভাল না?
কোলেস্টেরল এর মাত্রা কি উচু?
কোন কিছু স্মরণ করতে বা মনঃসংযোগ করতে কি আপনার সমস্যা হয়?
আপাত কোন কারন ছারাই কি আপনার ওজন বারে অথবা কমে?
অবসাদ,খামখেয়ালীপনা, উদ্বেগ, খিটখিটে ভাব কি আছে?
পেশীর ক্লান্তি ,ব্যথা অথবা দুর্বলতা কি আছে?
বিকিরন চিকিৎসার ঘটনা আছে কি?
বিষের সংস্পর্শে আসার ইতিহাস আছে কি?
পরিবারে আরও যেমন মা- এদের কারো কি থাইরয়েড সমস্যা আছে কি?
যদি ৪ এর অধিক প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ হয় তবে আর একদিন ও দেরি না করে আজই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ খাওয়া শুরু করুন।
গর্ভাবস্থায়থাইরয়েড
গর্ভাবস্থায় থাইরয়েডের সমস্যা সম্পর্কে জেনে রাখা উচিত কারণ আমরা অনেক সময় ই এমন কিছু সমস্যার সম্মুখীন হই যে বুঝতে পারিনা যে সমস্যা টা কেন হচ্ছে। ভালো মত টেস্ট করে জানা যায় যে এটা আসলে থাইরয়েড এর সমস্যা। তাই থাইরয়েড এর সমস্যার লক্ষন গুলো জেনে রাখুন, যাতে আপনারা নিজের সাথে মিলিয়ে নিতে পারেন।
গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড কিভাবে প্রভাবিত হয়?
গর্ভাবস্থায় মায়েদের শরীরে থাইরয়েড হরমোনের চাহিদা বেড়ে যায়। গর্ভকালীন hCG হরমোন এবং এস্ট্রোজেন থাইরয়েড গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে যাতে থাইরয়েড গ্রন্থি অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন উৎপন্ন করে।গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড গ্রন্থি সামান্য বড় হয়ে যেতে পারে। যদি তা বাইরে থেকে খুব বেশী একটা বোঝা জায়না।
হাইপোথাইরয়েডিজম এবং হাইপারথাইরয়েডিজম কি গর্ভের বাচ্চার উপর প্রভাব ফেলে?
গর্ভধারণের প্রথম ১২ সপ্তাহে ভ্রুনের বৃদ্ধি নির্ভর করে মায়ের থাইরয়েড হরমোনের উপর। তাই মায়ের পর্যাপ্ত পরিমানে থাইরয়েড হরমোন নিঃসরণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ হরমোনের গর্ভের শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই থাইরয়েডের সমস্যা নির্ণয় করা উচিত গর্ভধারণের আগেই বা গর্ভধারণের শুরুতেই। যদি শুরুতেই এ সমস্যা নির্ণয় করা যায় এবং তার প্রতিকার করা হয় তবে গর্ভের শিশুর ঝুঁকির সম্ভাবনা কম থাকে।
হাইপোথাইরয়েডিজমের কারণে বাচ্চার ক্ষতি হতে পারে। এ সমস্যার ফলে গর্ভের বাচ্চার শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্থ হয় যার ফলে বাচ্চা কম IQ নিয়ে জন্মাতে পারে। হাইপোথাইরয়েডিজমের সঠিক প্রতিকার না হলে আরও কিছু সমস্যা, যেমন- গর্ভপাত , সময়ের আগেই প্রসব,
প্রি-এক্লাম্পশিয়া , মৃত সন্তান প্রসব ইত্যাদি হতে পারে। তবে এ সমস্যাগুলো উপযুক্ত চিকিৎসার মাদ্ধমে রোধ করা যেতে পারে।
হাইপারথাইরয়েডিজমের ক্ষেত্রেও যদি তা নিরাময় করা না হয় তবে গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে, যেমন- গর্ভপাত,
প্লাসেন্টাল অ্যাবরাপশন , প্রি-ম্যাচিউর লেবার ও বার্থ , প্রি-এক্লাম্পশিয়া , মৃত সন্তান প্রসব, কম ওজনের বাচ্চার জন্মদান, এবং গর্ভে বাচ্চার ওজন ঠিক ভাবে না বাড়া ইত্যাদি।
এছাড়াও হাইপারথাইরয়েডিজমের প্রতিকার করা না হলে “থাইরয়েড স্টর্ম” নামের জটিলতা দেখা দিতে পারে। যদি গর্ভাবস্থায় এর সম্ভাবনা কম। এটি খুব কমন কোন ঘটনা নয় এবং সাধারণত বৃদ্ধ বয়সে হয়। “থাইরয়েড স্টর্ম” বলতে বুঝায় হঠাৎ করে অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন তৈরী হয়ে যাওয়া। এর ফলে প্রচন্ড জ্বর, মাথা কাজ না করা, পেটে ব্যাথা, উচ্চরক্তচাপ, হার্ট বিট অত্যন্ত বেড়ে যাওয়া এবং হার্ট ফেইলিওর হয়। তাদক্ষনিক চিকিৎসা না করলে “থাইরয়েড স্টর্ম” জীবন ঘাতি হতে পারে। সাধারণত ইনফেকশন ও স্ট্রেস হাইপারথাইরয়েডিজমের রোগীর মধ্যে “থাইরয়েড স্টর্ম” তৈরী হয়।
অনেক সময় গর্ভাবস্থার উপসর্গগুলি থাইরয়েডজনিত উপসর্গগুলিকে ঢেকে দেয়। যেমন- অনেক মহিলাই গর্ভবতী অবস্থায় ক্লান্ত বোধ করেন। এ উপসর্গ কিন্তু হাইপোথাইরয়েডিজমের কারণেও হতে পারে। আবার অনেক সময় সন্তান সম্ভবা মায়ের গরমে একটা হাঁসফাঁসানির অবস্থা হয়, হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় এগুলোও কিন্তু হাইপার-থাইরয়েডিজমের উপসর্গ হওয়া সম্ভব। মায়ের হাইপোথাইরয়েডিজম পর্যাপ্ত চিকিৎসা পেলে মায়ের বা সন্তানের কোনও ঝুঁকি থাকার কথা নয়, স্বাভাবিক গতিতেই গর্ভাবস্থা চলতে দেয়া যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে, মায়ের হাইপারথাইরয়েডিজম আয়ত্তের বাইরে চলে যাবার উপক্রম হয়, সে ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ মাসের মধ্যে থাইরয়েড গ্রন্থির অপারেশন প্রয়োজন হতে পারে। ডেলিভারির সময় শিশুটির থাইরয়েড স্বাভাবিক, অতিমাত্রায় কার্যকর বা অল্প কার্যকরী এই তিনটির যে কোনো একটি হতে পারে। সেসব ক্ষেত্রে তৎক্ষণাৎ শিশুটির চিকিৎসা শুরু করা হয়। এ কারণে বলা হয়, থাইরয়েডে আক্রান্ত মায়ের ডেলিভারি অবশ্যই কোনো বড় হাসপাতাল বা প্রতিষ্ঠানে হওয়া উচিত যেখানে মা ও শিশুর আধুনিক চিকিৎসার সবরকম ব্যবস্থা আছে।
হাইপারথাইরয়েডিজমের চিকিৎসাধীন মা অবশ্যই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াবেন। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ সর্বদাই মাথায় রাখেন যে ওষুধের সামান্য অংশ বুকের দুধের মধ্য দিয়ে বের হয় কাজেই শিশুটিকে বিশেষভাবে নজরে রাখতে হয়। যদি কোনো ভাবে তার মধ্যে থাইরয়েডের অসুখের সামান্যতম চিহ্নও দেখা যায় তার যথাযথ চিকিৎসা দরকার। যেসব মাকে এলট্রকসিন দিয়ে চিকিৎসা করা হয় তাঁদের ক্ষেত্রে ব্রেস্ট ফিডিং- এর কোনো অসুবিধা নেই।
কোনো কোনো মা ডেলিভারির তিন মাস পরে থাইরয়েডের প্রদাহে ভুগতে পারেন- তাকে বলে পোস্ট পারটাম থাইরয়েডাইটিস। প্রথমে একটা অস্থায়ী হাইপারথাইরয়েডিজম হয় তারপর ধীরে ধীরে হাইপোথাইরয়েডিজম। এ ধরনের অসুখেরও যথাযথ চিকিৎসা আছে, তবে রোগের সঠিক ডায়াগনোসিস হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
উন্নত দেশগুলোতে, শিশু জন্মের সঙ্গে সঙ্গে শিশুর নাভি সংলগ্ন নাড়ি থেকে রক্ত নিয়ে কয়েকটি পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষা করলে নিশ্চিতভাবে জন্মগত থাইরয়েডের অসুখ ধরা পড়বে।যদি মায়ের আগে থেকেই থাইরয়েডের সমস্যা থাকে তবে গর্ভধারণের পর তা ডাক্তারকে জানানো উচিত। কারন আপনার অবস্থার উপর নির্ভর করে ওষুধের পরিবর্তন করার প্রয়োজন হতে পারে।
থাইরয়েডের চিকিৎসা
আপনার লক্ষনগুলো যদি হাইপোথাইরয়েডিজম এবং হাইপারথাইরয়েডিজম সাথে মিলে যায়, একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট এর সাথে দেখা করুন। রক্তপরীক্ষার মাধ্যমে আপনার রক্তে TSH, T3 এবংT4 এর পরিমাণ নির্ণয় করলেই বোঝা যাবে যে আপনার থাইরয়েড এর সমস্যা আছে কিনা। যদিও থাইরয়েড এর সমস্যা যাতে না হয়, তা আগে থেকে প্রতিরোধের উপায় নেই (যদি না আয়োডিন এর অভাবে থাইরয়েড এর রোগ হয়ে থাকে), কিন্তু যদি রোগ হয়ে যায়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি হলেও তার চিকিতসা আছে। সুতরাং ভয়ের কিছু নেই, শুধু প্রয়োজন সচেতনতার।
হাইপো বা হাইপার দুই ক্ষেত্রেই ওষুধের মাধ্যমে থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতার চিকিৎসা করা সম্ভব। হাইপারথাইরয়েডিজমের ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় হলে চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র দিতে পারেন। থাইরয়েড হরমোন থাইরক্সিন গ্রহণই এর মূল চিকিৎসা। বেশির ভাগ রোগীকে জীবনভর এই হরমোন গ্রহণ করতে হয়।
হাইপারথাইরয়েডের নানা চিকিত্সা আছে। যেমন অ্যান্টিথাইরয়েড ওষুধ; প্রয়োজনে রেডিও অ্যাকটিভ আয়োডিন, অথবা অপারেশনের মাধ্যমে থাইরয়েড অপসারণ করা। চিকিত্সকই সব দেখেশুনে সিদ্ধান্ত দেবেন। হাইপারথাইরয়েডিজমের ক্ষেত্রে ওষুধে কাজ না করলে সার্জারি বা রেডিও-অ্যাকটিভ আয়োডিনথেরাপি দেওয়া হয়।
গর্ভাবস্থায় থাইরয়েডের সমস্যা হলে ওষুধের মাত্রার কিছু পরিবর্তন দরকার পড়ে এবং থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতার পরীক্ষা প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার করে দেখা বিশেষ জরুরি।
থাইরয়েড এর এই সমস্যা গুলো থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কিছু প্রাকৃতিক উপায় অবলম্বন করা যায়।
যেমন –
১। বেশি করে ভিটামিন এ গ্রহণ করতে হবে
থাইরয়েড এর সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হল বেশি বেশি ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া। এর জন্য প্রচুর গাজর, হলুদ ও গাঢ় সবুজ শাকসবজি ও ডিম খেতে হবে।
২। নারিকেল তেল
নারিকেল তেলে যে ফ্যাটি এসিড আছে তা থাইরয়েড এর কাজকে ত্বরান্বিত করে, এছাড়াও বিপাকে সহায়তা করে ও এনার্জি প্রদান করে। এটা শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে যা হাইপো থাইরয়েডিজম এর রোগী দের জন্য ভালো।
– রান্নার জন্য এক্সট্রা ভার্জিন অর্গানিক নারিকেল তেল ব্যবহার করুন।
– সকালের নাস্তার সময় দুধের সাথে ২ চামচ নারিকেল তেল মিশিয়ে খেতে পারেন।
৩। আপেল সাইডার ভিনেগার
থাইরয়েড-এর সমস্যায় আপেল সিডার ভিনেগার অনেক কার্যকরী। এটা এসিড ও ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করে, শরীর কে বিষ মুক্ত করে, ওজন কমতে সাহায্য করে এবং হরমোনের নিঃসরণে সহায়তা করে।
– ১ গ্লাস উষ্ণ পানিতে ২ চামচ অর্গানিক আপেল সাইডার ভিনেগার মিশান
– এর সাথে কিছুটা মধু যোগ করুন
– এই মিশ্রণটি প্রতিদিন খাওয়ার চেষ্টা করুন
টিপস:
· আপনার খাদ্য তালিকায় বাদাম, শিমের বীজ, পনির সহ প্রচুর ফল ও শাকসবজি রাখুন
· প্রতিদিন কিছু সময় ব্যায়াম করুন বা আপনার শারীরিক কার্যক্রম বাড়িয়ে দিন।এর ফলে শরীরে এমনকি থাইরয়েড গ্রন্থিতে অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধি পায়
· আয়োডিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন- পেঁয়াজ, ভুট্টা, আনারস, টমেটো, রসূন, ও স্ট্রবেরি খান
· অনেক পানি পান করুন
· হাই ক্যালরি যুক্ত খাবার বর্জন করুন। ভাঁজা পোড়া খাবার কম খান
· বেশি করে খনিজ লবণ সমৃদ্ধ খাবার খান
· ভিটামিন ডি গ্রহণ করুন
· কার্বোহাইড্রেট কম গ্রহণ করুন
যদি থাইরয়েড গ্রন্থিতে ব্যাথা হয় ও ফুলে যায় তাহলে দ্রুত ডাক্তার দেখান।

0 মন্তব্যসমূহ